জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ এবং স্থানীয় কৃষকদের উদ্ভাবনী পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
উপকূলীয় বনায়নের গুরুত্ব: ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেতে উপকূলীয় বনায়ন বা ‘সবুজ বেষ্টনী’ তৈরির প্রকল্প জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। এই বনায়ন শুধু পরিবেশ রক্ষা করছে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে।
লবণাক্ততা সহিষ্ণু চাষাবাদ: সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন আর আগের মতো ধান চাষ সম্ভব হচ্ছে না লবণাক্ততার কারণে। তবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এমন কিছু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে যা উচ্চ লবণাক্ততা সহ্য করে ফলন দিতে সক্ষম। এর পাশাপাশি কৃষকরা এখন ‘ভার্টিক্যাল ফার্মিং’ বা লতানো সবজি চাষের মাধ্যমে ছোট জায়গায় বেশি ফলন পাওয়ার চেষ্টা করছে।
জলবায়ু অভিযোজন ও প্রযুক্তি: বাংলাদেশের উপকূলীয় কৃষকরা এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং মাটির লবণাক্ততার পরিমাপ জানতে পারছেন। এই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ফসলের ক্ষতি অনেক কমে এসেছে। এ ছাড়া লোনা পানি থেকে মিঠা পানি তৈরির ছোট ছোট ফিল্টার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে যা নিরাপদ খাবার পানির নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ আজ জলবায়ু অভিযোজনে (Climate Adaptation) বিশ্বের রোল মডেল। নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন এবং স্থানীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনগুলো প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও মানুষ টিকে থাকতে জানে। গ্রিনপেজ-এর পাঠকদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতা থাকলে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সফল হতে পারব।
