আমরা যা সাগরে ফেলছি, তা আবার আমাদের খাবার প্লেটেই ফিরে আসছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত ইলিশ, কোরাল, লইট্টাসহ অন্তত ১৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পেটে এবং পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের (৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা) ভয়াবহ উপস্থিতি রয়েছে। পরিবেশ দূষণের এই নীরব ঘাতক এখন সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: নদীগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার টন অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে।
- খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ: সাগরের ঢেউ এবং সূর্যের আলোয় প্লাস্টিক ভেঙে ছোট কণায় পরিণত হয়। সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীরা একে জুপ্লাংকটন বা খাবার ভেবে খেয়ে ফেলে।
- মানবদেহে বিষক্রিয়া: এই মাছগুলো যখন মানুষ গ্রহণ করে, তখন মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাথে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক (যেমন- বিসফেনল-এ এবং থ্যালেটস) মানবদেহে প্রবেশ করে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
টেকসই ও অর্গানিক অ্যাকোয়াকালচারের গুরুত্ব: সাগরের এই দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী এখন ‘অর্গানিক বা নিরাপদ অ্যাকোয়াকালচার’-এর চাহিদা বাড়ছে। খামারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নন-জিএমও (Non-GMO) খাদ্য ব্যবহার করে মাছ চাষ করা হলে এই প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সমুদ্রকে প্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত করার এই প্রবণতা বন্ধ না হলে অচিরেই সামুদ্রিক মাছ মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
