এক সময়ের খরস্রোতা ও মৎস্যভাণ্ডার শীতলক্ষ্যা নদী আজ শিল্পকারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে একটি বিষাক্ত খালে পরিণত হয়েছে।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকার শত শত ডায়িং এবং টেক্সটাইল কারখানা রাতের অন্ধকারে ইটিপি (ETP) বন্ধ রেখে সরাসরি নদীতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ফেলছে। এর ফলে সম্প্রতি নদীতে ব্যাপক মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে।
দূষণের মাত্রা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO) মাত্রা প্রতি লিটারে ১ মিলিগ্রামেরও নিচে নেমে গেছে, যেখানে মাছ বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ৫ মিলিগ্রাম প্রয়োজন।
- অ্যাকোয়াটিক ডেড জোন: ভারী ধাতু যেমন সিসা, ক্রোমিয়াম এবং ক্যাডমিয়ামের কারণে নদীর তলদেশের বাস্তুতন্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একে জলজ প্রাণীর জন্য ‘ডেড জোন’ ঘোষণা করেছেন গবেষকরা।
- জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: এই বিষাক্ত পানি কৃষি জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় মানবদেহেও ক্ষতিকর ভারী ধাতু প্রবেশ করছে।
নদী দূষণকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে লোকদেখানো জরিমানার বদলে তাদের লাইসেন্স চিরতরে বাতিল করার মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ জরুরি।
