বাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বৈশ্বিক চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত ঝুঁকছে। জমির সীমাবদ্ধতার কারণে বিশাল সৌর পার্ক স্থাপন কঠিন হওয়ায়, এবার নীতি-নির্ধারকদের নজর পড়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির ওপর।
সম্প্রতি ‘অফশোর উইন্ড এনার্জি’ বা সমুদ্রে বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক: বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং অগভীর সমুদ্র এলাকা বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- উইন্ড ম্যাপিং: স্যাটেলাইট ডাটা ও সেন্সর ব্যবহার করে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে বাতাসের গড় বেগ সেকেন্ডে ৭-৮ মিটার, যা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আদর্শ।
- ফ্লোটিং টারবাইন: আধুনিক ‘ভাসমান উইন্ড টারবাইন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা গভীর সমুদ্রে স্থাপন করা যায় এবং সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা সহ্য করতে সক্ষম।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা: এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সবুজ জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এটি কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে, যা বাংলাদেশের ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান’-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
সমুদ্রে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কারিগরিভাবে চ্যালেঞ্জিং হলেও, বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
