সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো মনে হলেও, বিজ্ঞানীরা এখন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা ‘ক্রিস্পার’ (CRISPR) প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। একে বলা হচ্ছে ‘ডি-এক্সটিংকশন’ (De-extinction)।
মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি ‘কলোসাল বায়োসায়েন্সেস’ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ২০২৮ সালের মধ্যে বিলুপ্ত ‘পশমি ম্যামথ’ (Woolly Mammoth) এবং ‘ডোডো’ পাখিকে নতুন জীবন দিতে কাজ করছে।
পরিবেশগত সুবিধা বনাম নৈতিক বিতর্ক: ম্যামথ ফিরিয়ে আনার পেছনে বিজ্ঞানীদের প্রধান যুক্তি হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা।
- পারমাফ্রস্ট রক্ষা: হাজার বছর আগে ম্যামথরা আর্কটিকের বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে বরফকে শক্ত রাখতো এবং ঘাস খেয়ে ইকোসিস্টেম ঠিক রাখতো। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ম্যামথ ফিরিয়ে আনলে সাইবেরিয়ার বরফ গলা কমানো সম্ভব হবে।
- নৈতিক প্রশ্ন: তবে অনেক পরিবেশবিদের মতে, যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিলুপ্ত প্রাণী ফেরাতে খরচ হচ্ছে, তা দিয়ে বর্তমানে যে প্রাণীগুলো বিপন্ন (যেমন- বাঘ, গণ্ডার) তাদের রক্ষা করা উচিত। বিলুপ্ত প্রাণীরা আধুনিক পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
ডি-এক্সটিংকশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক চরম উৎকর্ষের প্রমাণ। তবে প্রকৃতির স্বাভাবিক বিবর্তনে হস্তক্ষেপ করা মানুষের জন্য কতটা মঙ্গলজনক হবে, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘকাল চলবে।
