নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আগামী ৩ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’। পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত এবং সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে সাইকেলের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘের ৭২তম নিয়মিত অধিবেশনে দিনটিকে ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর থেকেই বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
ব্যক্তিগত বাহন থেকে আধুনিক যুগের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী সাইকেল আবিষ্কারের পর থেকে এটি আর কেবল ব্যক্তিগত চলাচলের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জনসাধারণের সেবায় এক নির্ভরযোগ্য বাহনে পরিণত হয়েছে।
সময়ের বিবর্তনে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সাইকেলের মডেল ও কার্যকারিতায় এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। যানজট ও দূষণের এই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে সাইকেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ, আরামদায়ক এবং নিরাপদ হওয়ায় সব বয়সের মানুষের কাছেই এটি এখন সমান জনপ্রিয়।
শারীরিক সুস্থতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাইকেলের ভূমিকা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সাইক্লিং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণভাবে সহায়ক। এটি তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি ও বিপথগামিতা থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ জীবনধারায় অভ্যস্ত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই সাইক্লিং এখন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপন ও স্বপ্ন পূরণের অন্যতম মাধ্যম।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণ রোধে সাইকেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গ্রেট ব্রিটেনসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশই কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাইসাইকেলকে দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্য সরকার পরিবেশ রক্ষায় জ্বালানির বিকল্প হিসেবে যানবাহনে পরীক্ষামূলকভাবে চার্জিং পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করেছে। এমনকি ২০৩০ সালের পর দেশটিতে আর কোনো জ্বালানিচালিত যানবাহন ব্যবহার না করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্বভ্রমণে বাংলাদেশের তরুণরা দীর্ঘ বিবর্তনের পথ ধরে আধুনিক সাইকেল আজ বিনোদন ও রোমাঞ্চকর ভ্রমণের অন্যতম হাতিয়ার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের তরুণরাও এখন সাইকেল নিয়ে দেশ-বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাইক্লিস্ট দেশ ভ্রমণ করে আলোচনায় এসেছেন এবং বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের অদম্য তরুণদের সংগঠন ‘লাল-সবুজ সাইক্লিং ক্লাব’-এর পাঁচজন সদস্য এক দুঃসাহসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তারা আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সাইকেলে চড়ে সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সফলভাবে দেশ ভ্রমণের পর সাইকেলে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়া এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে তুলে ধরা।
প্রত্যাশা বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসে পরিবেশবাদী ও সাইক্লিস্টদের একটাই প্রত্যাশা—প্রয়োজন ও বিনোদন, উভয় ক্ষেত্রেই বাইসাইকেল হয়ে উঠুক মানুষের নিত্যদিনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। দূষণমুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের এই সাইক্লিং উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল হোক বাংলাদেশের নাম।
