এক সময় রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলকে মরুভূমির সাথে তুলনা করা হতো। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সরকারের ‘গ্রিন বারিন্দ ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় এই শুষ্ক অঞ্চলে শুরু হয়েছে এক কৃষি বিপ্লব। এর মূলে রয়েছে ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বা নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তি এবং প্রাচীন দেশীয় জলবায়ু সহনশীল ফসলের মিশ্রণ।
ড্রিপ ইরিগেশন ও এআই সেন্সর: বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা এখন আর ঢালাওভাবে সেচ দেয় না। প্রতিটি জমিতে বসানো হয়েছে ‘সয়েল ময়েশ্চার সেন্সর’। যখন মাটির জল কমে যায়, কেবল তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেমের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় জল পৌঁছে যায়।
এতে জল অপচয় কমেছে প্রায় ৭০%। ২০২৫ সালে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের পর ২০২৬ সালে পুরো বরেন্দ্র এলাকা এখন আম, মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের বাগানে ঢেকে গেছে।
মরুত্ব রোধে বনায়ন: কেবল কৃষি নয়, বরেন্দ্রর তাপমাত্রা কমাতে বনায়ন করা হয়েছে নতুন কৌশলে। ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম এলাকাগুলোতে কোটি কোটি বীজ ছিটানো হয়েছে।
২০২৬ সালে দেখা যাচ্ছে, এই অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা গত ৫ বছরের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। বরেন্দ্র অঞ্চল এখন বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে কাজ করছে, যা উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।
