জাতিসংঘের সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিশ্বের প্রধান ভূগর্ভস্থ পানির স্তরগুলো আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে।
এই বৈশ্বিক পানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি চালিত ‘ডিস্যালিনেশন’ (সমুদ্রের নোনা পানি মিঠা করা) এবং অত্যাধুনিক ‘ন্যানো-ফিল্টার’ প্রযুক্তি এখন সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সৌরচালিত ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট: সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রচলিত পদ্ধতিগুলোতে প্রচুর জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়তো, যা কার্বন নিঃসরণ বাড়াতো। কিন্তু বর্তমানে জিরো-কার্বন ‘সোলার থার্মাল ডিস্যালিনেশন’ প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে।
- এই পদ্ধতিতে বিশাল সোলার প্যানেল ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পানিকে বাষ্পীভূত ও ঘনীভূত করে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে শতভাগ বিশুদ্ধ খাবার পানি তৈরি করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বের বৃহত্তম সোলার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো কাজ শুরু করেছে।
ন্যানো-টেকনোলজির ব্যবহার: গ্রাফিন (Graphene) ভিত্তিক ন্যানো-ফিল্টার ব্যবহার করে অত্যন্ত কম খরচে এবং কম বিদ্যুতে সমুদ্র বা দূষিত নদী থেকে লোনা ও ভারী ধাতু আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তি এতই সূক্ষ্ম যে এটি পানির উপকারী খনিজ গুণাগুণ বজায় রেখে ক্ষতিকর পদার্থ ছাঁকতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মিঠা পানির উৎসগুলো যখন শুকিয়ে যাচ্ছে, তখন সমুদ্রের পানিকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পানের যোগ্য করার এই প্রযুক্তি মানবজাতিকে এক সম্ভাব্য তৃষ্ণার্ত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করতে পারে। আন্তর্জাতিক পানি চুক্তিগুলোর পাশাপাশি এই প্রযুক্তির প্রসার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
