জুলাই মাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পর আগস্ট মাসেও বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চরম ভাবাপন্ন আচরণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD)। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৫.৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত (গড়ে ৬৬৬ মিলিমিটার) রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে আগস্ট মাসের জন্য দেওয়া সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, এই মাসে একদিকে যেমন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে, তেমনি অন্যদিকে প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
তাপপ্রবাহ, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্টে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তি: আগস্ট জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু (৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি নগরজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি: মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব (সিলেট অঞ্চল) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল) স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে একই সাথে তীব্র গরম এবং অতিবৃষ্টির এই দ্বৈত রূপ মূলত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রত্যক্ষ ফল। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা এখন বৃষ্টিপাতের চেয়েও বড় একটি কাঠামোগত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।
গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো শঙ্কা নয়, বরং বর্তমানের রূঢ় বাস্তবতা। বন্যা ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও আগাম প্রস্তুতি এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
