আজ ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
স্বনামধন্য ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ (WWA) গ্রুপের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপের চারপাশের সমুদ্র, বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরের (Mediterranean Sea) তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।
গবেষণায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের কারণে ভূমধ্যসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমুদ্রের এই তীব্র উষ্ণতার কারণ ও পরিবেশগত বিপর্যয়:
সমুদ্রপৃষ্ঠের এই ভয়াবহ উত্তাপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র (Marine Ecosystem) এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রার জন্য এক চরম অশনিসংকেত।
- রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা: গত জুলাই মাসে ভূমধ্যসাগরের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ইতিহাসের যেকোনো জুলাই মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আগস্টের শুরুতে স্পেনের মায়োর্কা (Mallorca) দ্বীপের কাছাকাছি সাগরের পানির তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা একটি সাধারণ হট টাবের (Hot tub) তাপমাত্রার সমান।
- সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে: পানির এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে সাগরের প্রবাল প্রাচীর, মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক সামুদ্রিক প্রজাতি এই তীব্র তাপ সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছে অথবা অপেক্ষাকৃত শীতল পানির খোঁজে অন্য অঞ্চলে পরিযায়ী হতে বাধ্য হচ্ছে।
বিজ্ঞানী ও গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া সাগরের তাপমাত্রার এমন অস্বাভাবিক উল্লম্ফন এবং চরম ভাবাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া “কার্যত অসম্ভব” ছিল।
গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: ভূমধ্যসাগরের এই ফুটন্ত রূপ সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা। গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন অবিলম্বে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে আমাদের মহাসাগরগুলো পরিণত হবে প্রাণহীন উত্তপ্ত জলাধারে।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্ব নেতাদের এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে চূড়ান্ত ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।
