24 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
7 November, 2026
গ্রীন পেইজ
 ঢাকায় বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ পালনঃ সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের আহ্বান
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবেশ বিশ্লেষন

 ঢাকায় বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ পালনঃ সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের আহ্বান

আবাসনকে শুধু মাথা গোঁজার জায়গা হিসেবে দেখলে হবে না; নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, গণপরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করেই একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে হবে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং কার্যকর নীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলাধার, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, নিরাপদ চলাচল এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

 ঢাকায় বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ পালনঃ সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের আহ্বান

গত ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিঃ সকাল ১১.০০ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত “বাসযোগ্য নগরী নিশ্চিতে সবার জন্য মানসম্মত আবাসন” শীর্ষক লাইভ টকশো-তে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী’র সভাপতিত্বে এবং সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মো: মিঠুনের সঞ্চালনায় আয়োজনে বক্তব্য রাখেন ইন্সটিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের  ডীন অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ভূমিজ এর প্রতিষ্ঠাতা ফারহানা রশীদ তনু (খবর: প্রেসবিজ্ঞপ্তি)।

 ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, আবাসন খাতকে অনেকটাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ওপর ছেড়ে দেওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিপুল মানুষ মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু মাথা গোঁজার জায়গা তৈরি করলেই আবাসন নিশ্চিত হয় না; নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে সুস্পষ্ট আবাসন স্কিম গ্রহণ করতে হবে এবং সরকারি জমি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে সমন্বয় করে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে হবে। আবাসন সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দিলে নিম্ন আয়ের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে না; সরকারকে নীতি, জমি, অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় থাকতে হবে। বড় বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে অন্তত ২০ শতাংশ সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার মতো নীতিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

 ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, জনগণের অর্থে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই উন্নয়নের কারণে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, অতিরিক্ত যান্ত্রিক যানবাহন, জলাধার ও সবুজ এলাকা ধ্বংসের ফলে নগরের পরিবেশ ও বাসযোগ্যতা ক্রমেই সংকটাপন্ন হচ্ছে। এর অন্যতম ফল হলো নগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা আরবান হিট।

তাই শুধু নতুন প্রকল্প নয়, নষ্ট হওয়া জলাধার, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় সবুজায়ন ও নেচার-বেজড সল্যুশনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্মুক্ত স্থানে স্থাপনা নির্মাণের নির্ধারিত সীমা কঠোরভাবে মানতে হবে। জিয়া উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান ও ওসমানী উদ্যানের মতো উন্মুক্ত স্থানগুলোতে কংক্রিট না বাড়িয়ে সবুজায়ন করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার, সিটি করপোরেশন, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

 ফারহানা রশীদ তনু বলেন, বাংলাদেশে ২০১৬-২০১৭ সাল থেকে পাবলিক টয়লেট ও স্যানিটেশন নিয়ে কাজ ও আন্দোলন গতি পেলেও এখনো সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। শুধু টয়লেট নির্মাণ নয়, এর অবকাঠামো, ব্যবহারকারী, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থায়ন—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। অনেক পাবলিক টয়লেট থাকলেও সেগুলো ব্যবহার উপযোগী নয়; তাই নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকার পাবলিক টয়লেটের নীতিমালা অনুমোদন করলেও লিজ ব্যবস্থায় সেবার মানের চেয়ে বেশি অর্থ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনগণকে ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করে নিয়মিত মতামত ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত সেবা পাওয়া যেমন নাগরিকের অধিকার, তেমনি টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখা ব্যবহারকারীরও দায়িত্ব।

 সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, একটি নগরকে প্রকৃত অর্থে বাসযোগ্য করতে হলে নাগরিকদের জোরালো আওয়াজ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানো জরুরি। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের হাঁটা ও খেলাধুলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সাধারণ মানুষের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সমাজের সকল মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল এবং পার্ক-মাঠ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনা করতে হবে। পথচারীদের অধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। জনগণের বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি সুপরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত