বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ এবং টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলে দেশের চার বিভাগে (চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর) বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দুই দিন আগের দেওয়া আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস সত্য প্রমাণ করে ইতিমধ্যেই ফেনী, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরের টানা বৃষ্টিতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল।
বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি ও নদীর পানির সর্বশেষ অবস্থা (আপডেট): সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি নীলফামারী ও লালমনিরহাট পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ফেনীর মুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লাখো মানুষ পানিবন্দী জীবন যাপন করছেন।
পূর্বাভাস ও বৃষ্টিপাতের খতিয়ান: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) দুই দিন আগেই এমন একটি স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছিলেন, আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে কিছু কিছু স্থানে ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে একদিনেই ৩৯৪ মিলিমিটারের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজান এলাকাগুলোতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢল সরাসরি বাংলাদেশের নদীগুলোতে এসে পড়ছে।
যেসব নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে: বর্তমানে তিস্তা, সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার এবং কুড়িগ্রামের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও আশ্রয়কেন্দ্র: বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। ইতিমধ্যে পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। খোলা হয়েছে শত শত আশ্রয়কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, আগামী শনিবারের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে গেলে এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে এর আগ পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এবং পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
