বিশ্ব উষ্ণতা রোধে প্যারিস চুক্তির নির্ধারিত সীমাকে ঘিরে এক উদ্বেগজনক ও কঠোর সত্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)।
কেনিয়ার নাইরোবিতে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবী প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (1.5°C) বৈশ্বিক উষ্ণতার নিরাপদ সীমানা অতিক্রম করতে চলেছে।
তবে বিজ্ঞানীরা এও উল্লেখ করেছেন যে, তাৎক্ষণিক ও কঠোর বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমিয়ে পৃথিবীকে নিরাপদ ধারায় ফিরিয়ে আনা এখনও সম্ভব।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু ও বৈশ্বিক ঝুঁকি: ইউনেপ (UNEP)-এর এই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মারাত্মক পরিণতি এবং তা থেকে উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে:
-
অতিরিক্ত উষ্ণতার মারাত্মক পরিণতি: তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গেলে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে। এর ফলে সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীরের ব্যাপক ধ্বংস, চরম তাপপ্রবাহ, হিমবাহের দ্রুত গলন এবং নিচু দ্বীপ রাষ্ট্র ও উপকূলীয় শহরগুলো স্থায়ীভাবে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
-
মিথেন দূষণ হ্রাস ও জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে “মানবতার লড়াই” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন যে, বর্তমান সংকট উত্তরণে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, বর্জ্য ও অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসের দূষণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি ও মহাসাগর রক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপ্লব ত্বরান্বিত করার কোনো বিকল্প নেই।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু নিষ্ক্রিয়তা ও দীর্ঘসূত্রিতা আজ পৃথিবীকে এক ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গ্রিনপেজ মনে করে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই সংকটময় অধ্যায়কে আর দীর্ঘায়িত না করে উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে তাদের কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এবং জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এখনই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে।
