২০২৬ সালের মার্চ মাস। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী এখন কেবল একটি নদী নয়, এটি এখন একটি ‘স্মার্ট ইকো-সিস্টেম’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় হালদা নদীর একটি ‘ডিজিটাল টুইন’ বা ভার্চুয়াল প্রতিলিপি তৈরি করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নদীর প্রতিটি বাঁক, পানির গুণাগুণ এবং মাছের গতিবিধি এখন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা বিশ্বের নদী ব্যবস্থাপনায় এক বিরল দৃষ্টান্ত।
সেন্সর নেটওয়ার্ক ও রিয়েল-টাইম ডেটা আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হালদা নদীর তলদেশে এবং পাড়ে কয়েকশ ‘আন্ডারওয়াটার সেন্সর’ বসানো হয়েছে। এই সেন্সরগুলো পানির পিএইচ (pH), দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এবং টারবিডিটি বা ঘোলাটে ভাব প্রতি সেকেন্ডে পরিমাপ করছে।
২০২৬ সালের এই নতুন ব্যবস্থায়, যদি নদীর উজানে কোনো কারখানা বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে, তবে এআই (AI) স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বর্জ্যের উৎস শনাক্ত করে স্থানীয় প্রশাসনকে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে গত এক বছরে হালদায় মাছের মড়ক শূন্যে নেমে এসেছে।
প্রজনন মৌসুমে এআই-এর ভূমিকা: মার্চ থেকে মে মাস—হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার মোক্ষম সময়। ২০২৬ সালে এআই প্রযুক্তি মেঘের ঘনঘটা, বজ্রপাত এবং পানির তাপমাত্রার ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ভুলভাবে বলে দিচ্ছে কোন দিন এবং কোন সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়বে।
এর ফলে জেলেরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারছে এবং ডিম সংগ্রহের হার গত দশকের চেয়ে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ: হালদার সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল ড্রেজার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ২০২৬ সালের ডিজিটাল শিল্ড ব্যবস্থায় নদীতে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা প্রবেশ করলেই তার ইঞ্জিনের শব্দ (Acoustic signature) সেন্সরে ধরা পড়ে।
সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করে কন্ট্রোল রুমে পাঠায়। এই কঠোর নজরদারির কারণে হালদা এখন মা মাছের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ অভয়াশ্রম।
