জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা এবং মিঠা পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বিশ্বজুড়ে পানিসম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তঃসীমান্ত নদী ও ভূগর্ভস্থ জলাধারের সুষম ও ন্যায়সংগত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে আয়োজিত এক বিশেষ আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে নিম্ন অববাহিকার বদ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে পানির সুষম বণ্টন এবং আঞ্চলিক জলবায়ু কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

মূল আলোচ্য বিষয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: জাতিসংঘের জলবায়ু ও পানি নিরাপত্তা বিষয়ক এই বৈঠকে অভিন্ন নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়:
- ১৯৯২ সালের ওয়াটার কনভেনশনে সম্পৃক্ততা: আন্তঃসীমান্ত পানির সুষম ব্যবহার, নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ১৯৯২ সালের ‘কনভেনশন অন দ্য প্রোটেকশন অ্যান্ড ইউজ অব ট্রান্সবাউন্ডারি ওয়াটারকোর্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লেকস’ বা ওয়াটার কনভেনশনে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
- জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ডেল্টার সংকট: বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং নিচু বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় এখানে তীব্র বন্যা, নদীভাঙন, দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট এবং উপকূলীয় লবণাক্ততার মতো আন্তঃসংযুক্ত চ্যালেঞ্জগুলো দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, বরং আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব ও স্বচ্ছ তথ্য বিনিময়ের কোনো বিকল্প নেই।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: পানি কোনো ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নয়; এটি সমগ্র মানবজাতি ও বাস্তুতন্ত্রের প্রাণশক্তি।
গ্রিনপেজ মনে করে, অভিন্ন নদী অববাহিকাগুলোর ওপর রাজনৈতিক মতভেদ দূরে সরিয়ে রেখে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় মারাত্মক মানবিক সংকট তৈরি হবে।
