জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
নিউইয়র্কে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের এই উচ্চপর্যায়ের সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের বর্তমান এবং ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও এ দেশের মানুষকে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।
আসন্ন ‘সিওপি৩১’ (COP31) সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায়বিচার (Climate Justice), পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত রূপরেখা ও পরিবেশগত উদ্যোগ: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিবেশগত ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় সরকারের অভ্যন্তরীণ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়:
- মেগা বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্ন শক্তি: পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনের জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।
- খাল পুনঃখনন ও মেগা ওয়াটার প্রজেক্ট: বন্যা ও খরা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নদ-নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা (Teesta Master Plan), পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশের এই জোরালো অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে দেশের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করে দ্রুত সহজ শর্তের জলবায়ু তহবিল ছাড় করার মাধ্যমেই কেবল ঝুঁকিপূর্ণ ডেল্টা অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব।
