অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর বা ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’ (Great Barrier Reef) বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত মেরিন সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রের পানির অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে প্রবালের ‘ব্লীচিং’ বা সাদা হয়ে যাওয়ার হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই অমূল্য সামুদ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা এখন এক অভিনব মেরিন জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, যার নাম ‘ক্লাউড ব্রাইটেনিং’ (Cloud Brightening)।
প্রবাল ব্লীচিং ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি: সমুদ্রের তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও প্রবালের ভেতরে থাকা শৈবালগুলো মারা যায়, যা প্রবালকে তার রঙ ও পুষ্টি দেয়। প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হলে সাগরের ২৫% মাছ তাদের বাসস্থান হারাবে, যা বিশ্বব্যাপী মৎস্য শিল্পের ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে।
ক্লাউড ব্রাইটেনিং বা মেঘ উজ্জ্বলকরণ প্রযুক্তি: ২০২৬ সালে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা এই সংকটের এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে কাজ করছেন:
- পদ্ধতি: বিশেষ জাহাজের মাধ্যমে সাগরের নোনা জলকে অতি ক্ষুদ্র কণা বা অ্যারোসল আকারে আকাশের মেঘের দিকে স্প্রে করা হয়।
- তাপমাত্রা হ্রাস: এই নোনা জলের কণাগুলো মেঘকে আরও বেশি সাদা ও উজ্জ্বল করে তোলে। উজ্জ্বল মেঘ সূর্যের আলো ও তাপকে মহাকাশে প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়, ফলে নিচের সমুদ্রের পানি ঠাণ্ডা থাকে।
- কার্যকারিতা: মে ২০২৬ সালের পাইলট প্রজেক্টে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রিফের নির্দিষ্ট অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানো সম্ভব হয়েছে, যা প্রবালকে ব্লীচিং থেকে রক্ষা করছে।
জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং সাময়িকভাবে প্রবালকে বাঁচাতে পারলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত না কমালে এই আধুনিক প্রযুক্তি দিয়েও মহাসাগরের মহাসংকট এড়ানো যাবে না।
