বিশ্বজুড়ে পরিবেশের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হলো প্লাস্টিক দূষণ। তবে এই অভিশাপকেই এবার আশীর্বাদে রূপান্তর করার এক অভাবনীয় পথ খুঁজে পেয়েছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী।
তারা এমন একটি যুগান্তকারী রাসায়নিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে নিত্যব্যবহার্য পলিমারজাত প্লাস্টিক বর্জ্যকে ভেঙে সরাসরি উড়োজাহাজের তরল জ্বালানিতে (এভিয়েশন ফুয়েল) পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (CAS) আওতাধীন সাংহাই অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ফুদান ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি যৌথ দল এই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে।
কীভাবে কাজ করে এই নতুন প্রযুক্তি?
- বিশেষ অনুঘটক বা ক্যাটালিস্ট: গবেষকরা এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নিকেল ও কোবাল্টের মিশ্রণে তৈরি তুলনামূলক সস্তা ও নতুন ধরনের একটি অনুঘটক (Catalyst) ব্যবহার করেছেন।
- রাসায়নিক ভাঙন: এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্লাস্টিকের দীর্ঘ পলিমার রাসায়নিক শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা হয় এবং তা উড়োজাহাজে ব্যবহারের উপযোগী অ্যালকেন অণুতে রূপান্তরিত হয়ে সরাসরি তরল হাইড্রোকার্বন বা জ্বালানি তৈরি করে।
পরিবেশগত সম্ভাবনা ও গবেষণাগারের সাফল্য:
- দূষণ থেকে মুক্তি: বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪৬ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার ৬০ শতাংশেরও বেশি হলো সহজে পচনশীল নয় এমন পলিওলেফিন বা পলিমারজাত প্লাস্টিক। নতুন এই প্রযুক্তি এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব আনবে।
- উচ্চ উৎপাদন হার: পরীক্ষাগারে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিজ্ঞানীরা ৮২ শতাংশেরও বেশি তরল জ্বালানি উৎপাদনের অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন।
- গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস: প্রচলিত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির তুলনায় নতুন এই অনুঘটক পদ্ধতিটি অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি না করে সরাসরি তরল জ্বালানি তৈরি করে, যা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সক্ষম।
বিজ্ঞানীরা এই উদ্ভাবনকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখলেও কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। গবেষণাগারের এই শতভাগ সাফল্যকে শিল্প পর্যায়ে (Industrial Scale) নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের মিশ্র প্লাস্টিক বর্জ্য কার্যকরভাবে পরিশোধন করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
শিল্প পর্যায়ের এসব বাধা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী গবেষকরা। আর এটি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে একদিকে যেমন বিশ্ব প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাবে, অন্যদিকে এভিয়েশন বা উড়োজাহাজ শিল্প পাবে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস।
