বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল এবং উত্তরবঙ্গের জীববৈচিত্র্যের প্রাণকেন্দ্র ‘চলনবিল’ গত কয়েক দশক ধরে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং মানবসৃষ্ট দখলের কারণে এই বিলের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। তবে ২০২৬ সালের মে মাসের বর্তমান চিত্র বলছে, চলনবিলকে রক্ষায় স্থানীয় জনমানুষের আন্দোলন এবং সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি সমন্বিত মেগা প্রকল্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
সংকটের গভীরতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়: পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলা জুড়ে বিস্তৃত চলনবিল একসময় দেশীয় মাছ এবং পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল।
সাম্প্রতিক এক পরিবেশগত সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিলের প্রায় ৬০% এলাকা পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে এবং পানির ধারণক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শুষ্ক মৌসুমে বিলের বুক চিরে চাষাবাদ করার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, চলনবিল শুকিয়ে গেলে পুরো উত্তরবঙ্গের জলবায়ু চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠবে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে।
২০২৬ সালের মহাপরিকল্পনা ও ইকো-রিস্টোরেশন: চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) চলনবিল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি নতুন ইকো-রিস্টোরেশন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের মূল দিকগুলো হলো:
- অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বিলের ভেতরের সমস্ত অবৈধ বাঁধ ও মাছ ধরার স্থায়ী ঘের উচ্ছেদ করা।
- নদী ও খালের পুনঃখনন: চলনবিলে পানি নিয়ে আসা প্রধান নদী এবং অভ্যন্তরীণ খালগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনা।
- কমিউনিটি বেসড কনজারভেশন: স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকদের সমন্বয়ে ‘বিল রক্ষা কমিটি’ গঠন করা, যারা প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং পাখির শিকার রোধে কাজ করবে।
চলনবিল শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ফুসফুস। ২০২৬ সালের এই নতুন সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা বাংলাদেশের জলাভূমি ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
