২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য আকাশচুম্বী। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর। গ্যাস ও ডিজেল সংকটের কারণে শিল্পাঞ্চলগুলোতে লোডশেডিং এবং উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৫% থেকে ৪০% বেড়ে গেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের টিকে থাকার একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘সবুজ অর্থনীতি’ (Green Economy) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বাস্তবায়ন।
জ্বালানি সংকট ও কারখানার বাস্তব চিত্র: আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি (LNG) এবং জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক কারখানাকে এখন দৈনিক ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে হচ্ছে। এর ফলে পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক কাঁচামাল যেমন পলি ব্যাগ, সেলাইয়ের সুতা এবং কার্টনের দাম এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) তাদের ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সতর্ক করেছে যে, এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হতে পারে।
সৌরশক্তি ও ছাদ-ভিত্তিক (Rooftop) বিপ্লব: এই সংকটের মাঝেই নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে সৌরশক্তি। বাংলাদেশের বহু তৈরি পোশাক কারখানা এখন তাদের কারখানার বিশাল ছাদে ‘রুফটপ সোলার প্যানেল’ স্থাপন করছে।
-
নেট মিটারিং পলিসি: সরকারের নেট মিটারিং সুবিধার আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে, যা কারখানার বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে।
-
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা: ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা এখন পরিবেশ-বান্ধব বা ‘গ্রিন সার্টিফাইড’ কারখানার পণ্য কিনতে বেশি আগ্রহী। সৌরশক্তির ব্যবহার এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে।
ভবিষ্যৎ পথরেখা: নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের অংশ। ২০২৬ সালের এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে সৌর পার্ক, ভাসমান সোলার প্রজেক্ট এবং উইন্ড এনার্জিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদী কর নীতি সংস্কার করতে হবে।
