বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান দাবানল, আকস্মিক বন্যা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের মতো চরম দুর্যোগ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোতে আমূল সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিশ্বনেতারা বাক্সে সুন্দর প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে তহবিল ছাড়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চড়া সুদের হার বৈশ্বিক জলবায়ু নিরাপত্তাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা: জাতিসংঘের জলবায়ু দপ্তরের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে, বর্তমান গতিতে কার্বন কমানো কিংবা সবুজ শক্তিতে রূপান্তর ঘটানো সম্ভব নয়, কারণ এর পেছনে রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য:
-
উচ্চ সুদের হার ও ঋণ সংকট: উন্নয়নশীল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য শক্তি বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি সুদে ঋণ নিতে হয়, যা এই দেশগুলোর পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ঘটাতে পিছিয়ে পড়ছে।
-
জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বর্জন: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দিকে যখন জলবায়ু তহবিলের জন্য সামান্য অর্থ চাইতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, ঠিক তখনই বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিতে প্রতি বছর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈপরীত্য দূর করে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ করে সেই অর্থ সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু অভিযোজনে বিনিয়োগ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরকে কেবল দান বা সাহায্য হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।
গ্রিনপেজ মনে করে, উন্নত দেশগুলো যদি তাদের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করে দ্রুত সস্তা ও সহজ শর্তের জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত না করে, তবে আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কখনোই সম্ভব হবে না।
