দ্রুত বর্ধমান নগરાয়ন, অপরিকল্পিত জনবসতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় একটি সুসংহত রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘জাতীয় শহুরে ফোরাম ২০২৬’ (National Urban Forum 2026)।
পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের শহরগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিবেশবান্ধব করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ও পরিবেশগত কর্মপন্থা:
বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন শহরে বসবাস করে এবং দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে শহরগুলো থেকে। তবে এর বিপরীতে তীব্র যানজট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে:
- জাতীয় নগর নীতির বাস্তবায়ন: সম্প্রতি গৃহীত ‘জাতীয় নগর নীতি ২০২৫’-এর সঠিক বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions) চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে বিশেষজ্ঞগণ বলেন যে, জলবায়ু অভিবাসন ও পরিবেশগত অবনতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে হবে।
- সবুজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো: ঢাকার দুইপাশসহ দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোরগুলোতে অতিরিক্ত কংক্রিটকরণের ফলে যে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ তৈরি হচ্ছে, তা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সবুজায়ন, জলাধার সংরক্ষণ এবং কার্বন-বান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: অপরিকল্পিত কংক্রিটের জঙ্গল বানিয়ে শহরগুলোকে বাঁচানো অসম্ভব।
গ্রিনপেজ মনে করে, জাতীয় শহুরে ফোরামের এই আলোচনাগুলো কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে তবেই ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
