মানবদেহ, গবাদিপশু এবং সামগ্রিক পরিবেশের স্বাস্থ্য যে একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, তা উপলব্ধি করে প্রচলিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন রূপরেখা টানার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পরিবেশ ও কৃষি বিষয়ক সেমিনারে জোরালোভাবে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ফলে সৃষ্ট নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) বা সমন্বিত স্বাস্থ্য দৃষ্টিভঙ্গিকে কেবল নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আটকে না রেখে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ও অপারেশনাল রূপ দিতে হবে।
মূল আলোচ্য বিষয় ও পরিবেশগত কর্মপন্থা: বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস এবং জলবায়ু সংকটের কারণে বর্তমান সময়ে নতুন নতুন রোগজীবাণু ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে:
-
আন্তঃসংযুক্ত খাতের সুরক্ষা: মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বনভূমি ধ্বংস ও জলাশয় ভরাটের ফলে বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে zoonotic রোগ বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাই পরিবেশগত সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যকে এক সুতোয় গেঁথে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
-
সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করতে পারবে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: পরিবেশগত সংকট যে কেবল গাছপালা বা নদীর ক্ষতি করে তা নয়, বরং এটি সরাসরি মানবজাতির অস্তিত্ব ও স্বাস্থ্যের ওপর আঘাত হানে।
গ্রিনপেজ মনে করে, ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এই উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
