বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান খরা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়া এবং কৃষি জমিতে লবণাক্ততার আগ্রাসন রোধে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
দেশের উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র ও এর আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত মাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে যে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, তা রোধে নতুন সেচ কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
পদক্ষেপ ও পরিবেশগত কৌশল: মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫৪ লক্ষ হেক্টর ভূমি বর্তমানে খরাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে:
-
গভীর নলকূপের অপব্যবহার রোধ: অঞ্চলটিতে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপের মাধ্যমে অতিরিক্ত মাত্রায় পানি তোলার কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছিল, যে কারণে বর্তমানে নতুন সেচ কার্যক্রমে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
-
প্রযুক্তিভিত্তিক স্মার্ট কৃষি পরামর্শ: কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে পানি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে ‘বাংলাদেশ এগ্রো-মেট্রোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস’ (BAMIS)-এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ, ভয়েস কল ও এসএমএস-এর সাহায্যে রিয়েল-টাইম আবহাওয়া ও কৃষিপরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
-
জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়ন: ২০০৯ সাল থেকে পরিচালিত ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ১২টি নতুন জাতের শস্য উদ্ভাবন এবং তা কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: মাটির নিচের পানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়াতে না পারলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
সরকারের এই সময়োপযোগী নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।
