আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী ও জলবায়ু গবেষকদের সাম্প্রতিক এক নতুন গবেষণায় পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে এক নীরব ও নজিরবিহীন বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মরুকরণ রোধ কনভেনশনের (UNCCD COP17) সাইডলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিগত তিন বছরে পৃথিবীর প্রায় ৮৪ শতাংশ প্রবাল প্রাচীর (Coral Reefs) তীব্র সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
সংকটের পরিধি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: সমুদ্রের তলদেশে ঘটে চলা এই পরিবর্তন কেবল প্রবাল প্রাচীরকেই ধ্বংস করছে না, বরং এটি গোটা সামুদ্রিক খাদ্য শৃঙ্খলকে ভেঙে দিচ্ছে:
-
প্রবালের ব্লিচিং ও মৃত্যু: পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রবালগুলো তাদের গায়ে থাকা প্রয়োজনীয় শৈবাল হারিয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করে (Coral Bleaching) মারা যাচ্ছে। এটি সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্রকে চিরতরে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
-
ক্ষতির অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্য: জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদ অনুযায়ী, ভূমি ও সামুদ্রিক অবক্ষয়ের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় ৯০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্বন নিঃস্রবণ কমানোর গতি যদি এখনই ত্বরান্বিত না করা হয়, তবে সমুদ্রের এই বাস্তুতন্ত্রগুলো আর কখনো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: স্থলভাগের খরা কিংবা সমুদ্রের প্রবাল ধ্বংস—সবকিছুর মূলে রয়েছে বায়ুমণ্ডলে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শুধু কথায় নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং কার্যকর প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল পৃথিবীর এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।
