২০২৬ সালে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যাপক চাহিদার কারণে লিথিয়াম এবং কোবাল্টের অভাব দেখা দিয়েছে। এই সংকট মেটাতে প্রশান্ত মহাসাগরের ৪ কিলোমিটার গভীরে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ‘ডিপ সী মাইনিং’ বা সমুদ্রতলের খনি প্রকল্প। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বিশাল যান্ত্রিক অভিযান সমুদ্রের এক অজানা বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।
সমুদ্রের তলদেশে কী আছে? প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে রয়েছে আলুর মতো ছোট ছোট ‘পলিম্যাটালিক নুডুলস’, যা নিকেল, কোবাল্ট এবং ম্যাঙ্গানিজে ভরপুর। ২০২৬ সালের এই মিশনে বিশাল রোবটিক ড্রেজার ব্যবহার করে এই খনিজগুলো তুলে আনা হচ্ছে। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ড্রেজারগুলো সমুদ্রের তলদেশের ধুলোবালি ও পলি মেঘের মতো ছড়িয়ে দিচ্ছে (Sediment Plumes), যা কয়েকশ কিলোমিটার পর্যন্ত মাছ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের শ্বাসরোধ করে মারছে।
আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও আইন: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘ এবং ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটি (ISA) এই খনি খননের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা ভাবছে। তবে চীন এবং নরওয়ের মতো দেশগুলো দাবি করছে যে, গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করতে হলে এই খনিজগুলোর কোনো বিকল্প নেই।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা: বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের গভীরে এমন অনেক প্রজাতি আছে যা মানুষ এখনো আবিষ্কারই করেনি। খনি খননের ফলে পৃথিবী চিরতরে সেসব অমূল্য জীববৈচিত্র্য হারাতে পারে। ২০২৬ সালে আমাদের সামনে বড় প্রশ্ন—জলবায়ু বাঁচাতে গিয়ে আমরা কি সমুদ্রের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছি?
