তিহাসিকভাবে বাংলাদেশের এপ্রিল ও মে মাস মানেই তীব্র তাপদাহ, শুষ্ক আবহাওয়া আর মাঝে মাঝে কালবৈশাখীর ঝড়। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল এবং মে মাসের বর্তমান চিত্র পুরো চেনা প্যাটার্নকে ওলটপালট করে দিয়েছে।
তীব্র বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং অনবরত বর্ষণ এ বছরের প্রাক-বর্ষা মৌসুমকে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম আর্দ্রতম সময়ে পরিণত করেছে। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা একে কেবল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি যে বাংলাদেশের আবহাওয়ার স্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত, তা নিশ্চিত করছেন।
মূল তথ্য ও আবহাওয়ার অসঙ্গতি: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭৫.৭% বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮০% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের পশ্চিমা লঘুচাপের অস্বাভাবিক অবস্থানের কারণে এই তীব্র মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC) বারবার সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি ফল এই আকস্মিক অতিবৃষ্টি।
কৃষি ও জনজীবনে বহুমুখী প্রভাব: এই অসময়ের ভারী বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি বাংলাদেশের কৃষি ক্যালেন্ডারকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।
- ফসলের ক্ষতি: মাঠে থাকা বোরো ধান এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি শিলাবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- নগরায়ণ ও জলাবদ্ধতা: ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিচ্ছে।
- স্বাস্থ্য ঝুঁকি: আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ও শহরাঞ্চলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
শ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) দক্ষিণ এশিয়াকে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের এই বৈরী আবহাওয়া প্রমাণ করে যে, অভিযোজন ক্ষমতা (Adaptation) দ্রুত বৃদ্ধি না করলে এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরি না করলে ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা বড় হুমকির মুখে পড়বে।
