বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০% পণ্য সমুদ্রপথে জাহাজের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে এই বিশাল শিপিং শিল্প বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩% এর জন্য দায়ী, কারণ জাহাজগুলোতে অত্যন্ত দূষিত ভারী জ্বালানি তেল (Bunker Fuel) ব্যবহার করা হয়।
২০২৬ সালের মে মাসে এসে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)-এর কঠোর পরিবেশ নীতির কারণে শিপিং শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটেছে। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সাগরে নামানো হয়েছে হাইড্রোজেন এবং গ্রিন অ্যামোনিয়া চালিত মেগা কার্গো জাহাজ।

শিপিং শিল্পের পরিবেশগত ক্ষতি: ঐতিহ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড এবং ব্ল্যাক কার্বন সমুদ্রের বাতাস ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। বিশেষ করে আর্কটিক বা মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার পেছনে এই জাহাজের ধোঁয়া একটি বড় কারণ।
নব্য জ্বালানির বাণিজ্যিক বাস্তবায়ন: ২০২৬ সালে এসে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের প্রথম গ্রিন হাইড্রোজেন চালিত কন্টেইনার জাহাজ তাদের প্রথম সফল আন্তর্জাতিক ট্রিপ সম্পন্ন করেছে।
-
শূন্য নিঃসরণ: হাইড্রোজেন বা অ্যামোনিয়া যখন ফুয়েল সেল-এর মাধ্যমে পুড়োনো হয়, তখন ধোঁয়ার পরিবর্তে কেবল পানি বা জলীয় বাষ্প তৈরি হয়, যা শতভাগ পরিবেশ-বান্ধব।
-
গ্রিন অ্যামোনিয়ার সুবিধা: তরল হাইড্রোজেনের চেয়ে অ্যামোনিয়া সংরক্ষণ করা সহজ ও সাশ্রয়ী, তাই দূরপাল্লার বড় জাহাজের জন্য গ্রিন অ্যামোনিয়া ২০২৬ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প জ্বালানি হয়ে উঠেছে।
শিপিং শিল্পের এই সবুজ রূপান্তর জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি বিশাল লাফ। ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বন-মুক্ত নৌপথ গড়ে তোলার যে বৈশ্বিক লক্ষ্য রয়েছে, ২০২৬ সালের এই অগ্রগতি তার সঠিক পথরেখা নির্দেশ করছে।
