দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সামনে থাকা বহুমুখী পরিবেশগত সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মেগা সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারজেন্স বা বঙ্গোপসাগর সংলাপ ২০২৬’।
৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের একশর অধিক দেশের দুই শতাধিক বিশিষ্ট গবেষক, পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধি অংশ নিয়ে আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সংলাপের মূল এজেন্ডা ও পরিবেশগত কর্মপন্থা: বাংলাদেশ সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (CGS)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হচ্ছে:
- উপকূলীয় সুরক্ষা ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন সামুদ্রিক ঝড় এবং উপকূলীয় ইকোসিস্টেম ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় যৌথ মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত প্লাস্টিক দূষণ ও অবৈধ মাছ ধরার কারণে সামুদ্রিক মৎস্যভাণ্ডার যে হুমকির মুখে পড়েছে, তা রোধে কঠোর আঞ্চলিক নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়।
- জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায়বিচার: জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ঝুঁকিপূর্ণ ডেল্টা রাষ্ট্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ও সহজ শর্তে তহবিল ছাড় করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে এই মঞ্চ থেকে।
গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বঙ্গোপসাগর কেবল একটি জলরাশি নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও জলবায়ু সুরক্ষার মূল চালিকাশক্তি। গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, এই আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে আঞ্চলিক দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করলে তবেই এই সংবেদনশীল অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।
