জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র ও উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মালের আন্তর্জাতিক ফোরামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের যৌথ পরিবেশগত উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশ এবং জলবায়ু কূটনীতিতে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত হয় বিশেষ ‘ইউথ ট্র্যাক টু সিওপি৩১’ (Youth Track to COP31) কর্মসূচি।
উভয় দেশের পরিবেশবাদী তরুণ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে এই আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কর্মশালার মূল এজেন্ডা ও কৌশলগত সহযোগিতা: মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও শক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়:
- উপকূলীয় সংকট ও যুব নেতৃত্ব: বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপ—উভয় দেশই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়া সংকটের সম্মুখসারিতে রয়েছে। আসন্ন তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য সিওপি৩১ (COP31) সম্মেলনে তরুণদের কণ্ঠস্বর ও উদ্ভাবনী ধারণাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় ইয়ুথ নেটওয়ার্ক গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- পরিবেশগত তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়: জলবায়ু অভিযোজন কৌশলে তরুণ গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে ফেলোশিপ এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের দ্বীপ ও বদ্বীপ অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেবল প্রবীণ নীতিনির্ধারকরাই নন, বরং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তি ও অংশগ্রহণকে মূল ধারায় নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
গ্রিনপেজ মনে করে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এই মেলবন্ধন দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে জলবায়ু ন্যায়বিচার আদায়ে আরও বেশি সোচ্চার করবে।
