২০২৬ সালের ১৮ মার্চ। ঢাকার বায়ু মান সূচক (AQI) গত দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেকর্ড করা হয়েছে। এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় থাকা ঢাকা এখন ‘ক্লিন এয়ার সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
এর মূলে রয়েছে একটি সাহসী সিদ্ধান্ত—ঢাকার সড়ক থেকে সব ধরণের পুরনো ডিজেলচালিত বাস সরিয়ে ১০০ শতাংশ ইলেকট্রিক বাস (EV Bus) চালু করা।
বায়ু দূষণ হ্রাসের পরিসংখ্যান আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সরকার যখন ‘ই-বাস’ প্রকল্প চালু করে, তখন থেকেই ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর পিএম ২.৫ (PM 2.5) এর মাত্রা কমতে শুরু করে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে এটি এখন প্রতি ঘনমিটারে ২০ মাইক্রোগ্রামের নিচে অবস্থান করছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ডের খুব কাছাকাছি। বাসের কালো ধোঁয়া এবং উচ্চ শব্দের হর্নের পরিবর্তে এখন শোনা যায় ইলেকট্রিক বাসের মৃদু গুঞ্জন।
স্মার্ট চার্জিং স্টেশন ও সৌর বিদ্যুৎ: ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ এবং কুড়িল এলাকায় বিশাল সব ‘স্মার্ট চার্জিং হাব’ তৈরি করা হয়েছে।
এই স্টেশনগুলোর ছাদে বসানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতার সোলার প্যানেল, যা থেকে বাসের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই বাসগুলোতে রয়েছে এআই ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যা জানজট কমাতে সাহায্য করছে।
জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক বছরে ঢাকায় ফুসফুসের রোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ কমেছে।
ডিজেল আমদানিতে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ‘লিভিং এক্সাম্পল’ যে, সদিচ্ছা থাকলে একটি মেগাসিটিকেও দূষণমুক্ত করা সম্ভব।
