২০২৬ সালে বাংলাদেশের আকাশ থেকে কালো ধোঁয়া উধাও হতে শুরু করেছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনায় দেশের প্রায় সব ঐতিহ্যবাহী ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে পরিবেশবান্ধব ‘বায়ো-ব্রিকস’ বা অ-দগ্ধ ইট। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্প এখন একটি সবুজ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইট তৈরিতে আর মাটি পোড়ানো হয় না।
কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই ইট?
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে ব্যবহৃত এই ইটগুলো মূলত নদীর পলি, ফ্লাই অ্যাশ এবং বিশেষ ধরণের কেমিক্যাল বন্ডিং দিয়ে তৈরি। এগুলো আগুনে পোড়ানো হয় না, বরং উচ্চ চাপে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে শুকানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ শূন্য। সবচেয়ে বড় চমক হলো—কিছু ইটের ভেতর বিশেষ ধরণের ব্যাক্টেরিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে যা বাতাস থেকে $CO_2$ শোষণ করে ইটকে আরও মজবুত করে তোলে।
পরিবেশগত সুরক্ষা:
ইটভাটার জন্য প্রতি বছর যে পরিমাণ কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কাটা হতো, ২০২৬ সালে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইটভাটা বন্ধ হওয়ায় ঢাকার বায়ু দূষণ গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অর্থনীতি ও স্থায়িত্ব:
বায়ো-ব্রিকস ওজনে হালকা হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় ১৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া এই ইটগুলো তাপ নিরোধক হওয়ায় বাড়ির ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (AC) প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ইটের দিকে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।
