জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদী ভাঙন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তীব্র খরা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষকে তাদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করছে।
এই ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুরা’ (Climate Migrants) কাজের সন্ধানে মূলত রাজধানী ঢাকার দিকে ছোটেন, যার ফলে ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই সংকট সমাধানে ২০২৬ সালে এসে ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’-এর অধীনে ভুক্তভোগী মানুষকে ঢাকার বাইরে অন্যান্য সম্ভাবনাময় শহরে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু স্থানচ্যুতির ভয়াবহতা: সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ২ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
নদী ভাঙনের কারণে এক রাতেই একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের বস্তিগুলোতে আশ্রয় নেওয়া এই বিপুল জনগোষ্ঠী নগরীর পরিবেশ, স্যানিটেশন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সেকেন্ডারি সিটির উন্নয়ন মডেল: ঢাকাকে বাঁচানো এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন দেওয়ার জন্য খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল এবং কক্সবাজারের মতো শহরগুলোকে ‘জলবায়ু সহনশীল সেকেন্ডারি সিটি’ (Climate-Resilient Secondary Cities) হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
- সবুজ অবকাঠামো: ইউএনওপিএস (UNOPS) এবং হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (HBRI)-এর যৌথ উদ্যোগে এই শহরগুলোতে পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই আবাসন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
- স্থানীয় কর্মসংস্থান: পুনর্বাসিত জনগোষ্ঠীর জন্য পরিবেশ-বান্ধব ক্ষুদ্র শিল্প, বনায়ন প্রকল্প এবং আধুনিক মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বাস্তুচ্যুত মানুষদের কেবল ত্রাণ দেওয়া স্থায়ী সমাধান নয়। ডেল্টা প্ল্যানের এই বিকেন্দ্রীকরণ নীতি যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বাংলাদেশ জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলার পাশাপাশি সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে।
