বাংলাদেশের মৎস্য চাষ (Aquaculture) এবং পোল্ট্রি শিল্প দেশের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তবে এই খামারে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মানবস্বাস্থ্যের জন্য তীব্র ঝুঁকি তৈরি করেছে।
২০২৬ সালের মে মাসের এক আন্তর্জাতিক ফুড সেফটি কনফারেন্সে সতর্ক করা হয়েছে যে, মাছে-মাংসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করা অ্যান্টিবায়োটিক ‘সুপারবাগ’ তৈরি করছে।
এই প্রাণঘাতী সংকট থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের খামারিরা এখন ক্ষতিকর কেমিক্যালের বিকল্প হিসেবে পরিবেশ-বান্ধব ‘প্রোবায়োটিক’ (Probiotics) প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন।
অ্যান্টিবায়োটিকের গোপন বিপদ ও পরিবেশ দূষণ: খামারের রোগবালাই কমানোর জন্য যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে খামারের পানি ও মাটি দূষিত হচ্ছে।
এই দূষিত পানি যখন আশেপাশের নদী-নালা ও বিলে মিশছে, তখন তা প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ও জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার এখন কেমিক্যালযুক্ত মাছ বা চিংড়ি আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার: ২০২৬ সালে বাংলাদেশে জৈব-নিরাপত্তা (Biosecurity) নিশ্চিত করতে প্রোবায়োটিক পণ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে।
- পানির গুণগত মান উন্নয়ন: পানিতে নির্দিষ্ট উপকারী ব্যাকটেরিয়া (যেমন ব্যাসিলাস স্পিসিস) প্রয়োগের ফলে পানির অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর হয় এবং ক্ষতিকর প্যাথোজেন ধ্বংস হয়। এর ফলে ঘন ঘন পানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: মাছ ও মুরগির খাদ্যের সাথে প্রোবায়োটিক মিশিয়ে দিলে তাদের হজমশক্তি বাড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তা শূন্যে নামিয়ে আনে।
বাংলাদেশের টেকসই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই বায়ো-টেকনোলজির সঠিক প্রসারের ওপর। সরকারকে প্রোবায়োটিক আমদানির শুল্ক কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করতে হবে।
