বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টিকে কোনো রাজনৈতিক বা খণ্ডিত ইস্যু হিসেবে না দেখে একে সরাসরি ‘অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার জরুরি নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে দেখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোর (UNFCCC) নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পরিবেশ কমিটির বৈঠকে দেওয়া এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি বলেন যে, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে বয়ে যাওয়া চরম দাবানল, তীব্র তাপপ্রবাহ ও উৎপাদন বিপর্যয় প্রমাণ করেছে যে জলবায়ু নীতি থেকে পিছু হটা মানেই মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।
বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি: ইউএন জলবায়ু প্রধান তার বক্তব্যে পরিবেশগত অবক্ষয়ের সাথে সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতার যোগসূত্র তুলে ধরেছেন:
- অভাবনীয় আর্থিক ক্ষতি: সদ্য সমাপ্ত গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে চরম আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হ্রাস, বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়া এবং খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ইউরো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির পূর্ণ এক শতাংশ জিডিপি সমপরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
- নবায়নযোগ্য শক্তির সুফল: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ইউরোপকে বারবার জ্বালানি সংকটে ফেলছে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইউরোপ গ্যাস আমদানি বাবদ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে আসন্ন COP31 সম্মেলনের আগে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু সংকট এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আজ এক সুতোয় গাঁথা।
গ্রিনপেজ মনে করে, উন্নত বিশ্ব যদি এখনই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পুরোপুরি সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত না করে, তবে আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি ও জলবায়ু অভিবাসনের ঢেউ সামলানো পুরো মানবজাতির জন্যই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
