বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের টেকসই উন্নয়ন, সমুদ্রসম্পদের সুষম ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নৌ-বাণিজ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস ২০২৬’।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (IMO)-এর নির্ধারিত প্রতিপাদ্য “পলিসি থেকে প্র্যাকটিস: মেরিটাইম এক্সিলেন্স গড়া”-এর সাথে সংগতি রেখে বন্দর ও শিপিং খাতে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকার দেশের ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
কার্যক্রম ও কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা: সামুদ্রিক বাণিজ্য ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে:
- ডিকার্বনাইজেশন ও জাহাজ পুনর্চক্রায়ন: অভ্যন্তরীণ ও মহাসাগরীয় নৌরুটে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে ডিকার্বনাইজেশন প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের জাহাজ ভাঙা শিল্প (Ship-Recycling) গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নৌবন্দরসমূহের ডিজিটাল রূপান্তর: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোতে অটোমেটেড ও ডিজিটাল লজিস্টিক সিস্টেম চালুর মাধ্যমে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় ও জ্বালানি অপচয় কমানো হচ্ছে, যা সামুদ্রিক দূষণ হ্রাসে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অপার সম্ভাবনা হলেও অপরিকল্পিত সামুদ্রিক কার্যক্রমে ইকোসিস্টেম ধ্বংসের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, ব্লু ইকোনমির সঠিক বিকাশের জন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং কঠোর পরিবেশগত নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
