বিশ্বের প্রধান প্রধান শহরগুলোর জীবনযাত্রার মান, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘অক্সফোর্ড ইকোনমিকস গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স ২০২৬’ (Oxford Economics Global Cities Index 2026)-এর সাম্প্রতিক র্যাংকিংয়ে বড় ধরনের পতন ঘটেছে বাংলাদেশের শহরগুলোর।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই বৈশ্বিক সূচকে দেখা গেছে যে, তীব্র পরিবেশগত অবনতি, দূষণ এবং দুর্বল সুশাসনের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি প্রধান শহরই তাদের পূর্বের অবস্থান হারিয়ে আরও পেছনের সারিতে চলে গেছে।
সূচকের মূল মূল্যায়ন ও পরিবেশগত বিপর্যয়: বিশ্বের ১৬৩টি দেশের ১,০০০টি শহরের ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষায় অর্থনীতি, মানব পুঁজি, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং সুশাসন—এই পাঁচটি মূল ক্যাটাগরি বিবেচনা করা হয়েছে:
-
ঢাকার অবনতি এবং পরিবেশ সূচকে তলানি: দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় অর্থনৈতিক কিছু সূচকে ঢাকা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও পরিবেশগত ক্যাটাগরিতে এর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন, মাত্রাতিরিক্ত বায়ু ও শব্দ দূষণ এবং সবুজ জায়গার অভাবে ঢাকা বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৩২ ধাপ অবনতি হয়ে ৫১৫তম অবস্থানে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রাজশাহী (৭৭৯তম), চট্টগ্রাম (৭৬৩তম), খুলনা ও সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোও পরিবেশ ও সুশাসনের দুর্বলতার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধাপ পিছিয়েছে।
-
শহুরে তাপপ্রবাহ ও বাসযোগ্যতার সংকট: গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, অপরিকল্পিত কংক্রিটের অবকাঠামো এবং নদী ও জলাশয় ভরাটের ফলে চট্টগ্রাম ও ঢাকার মতো শহরগুলোতে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা শহরগুলোকে দিন দিন বসবাসের অনুপযুক্ত করে তুলছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: আন্তর্জাতিক এই সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর ধারাবাহিক অবনতি প্রমাণ করে যে, গতানুগতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে আর যাই হোক টেকসই শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শহরগুলোর পরিবেশগত মানোন্নয়ন, জলাধার রক্ষা এবং কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব।
