পৃথিবীর ফুসফুস’ আমাজন রেইনফরেস্ট কাঠ পাচারকারী এবং অবৈধ খনি শ্রমিকদের থাবায় প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের শঙ্কা, আমাজন তার ‘টিপিং পয়েন্ট’-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এই চরম বিপর্যয় ঠেকাতে সম্প্রতি লাতিন আমেরিকার দেশগুলো, আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন এবং আমাজনের স্থানীয় আদিবাসীদের সমন্বয়ে একটি নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক সুরক্ষা মডেল চালু করা হয়েছে।
আদিবাসী জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ: আমাজনকে সবচেয়ে ভালোভাবে চেনে সেখানকার আদিবাসীরা। এখন তাদের প্রথাগত জ্ঞানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি।
- এআই ও স্যাটেলাইট ডাটা: হাই-রেজোলিউশন স্যাটেলাইট ইমেজ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বনের কোথায় অবৈধভাবে গাছ কাটা হচ্ছে তা রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করা হচ্ছে।
- ড্রোনের ব্যবহার: আদিবাসী তরুণদের ড্রোন ও জিপিএস ট্র্যাকার চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা বনের গহীনে টহল দিচ্ছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ছবি তুলে সরাসরি সরকারি টাস্কফোর্সের কাছে পাঠাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক তহবিল ও কার্বন ক্রেডিট: আমাজন রক্ষায় ‘অ্যামাজন ফান্ড’-এ ইউরোপীয় দেশগুলো নতুন করে মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে। এছাড়া বনাঞ্চল রক্ষার বিনিময়ে আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে সরাসরি কার্বন ক্রেডিটের লভ্যাংশ প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে।
বন রক্ষার এই নতুন মডেল প্রমাণ করে যে, স্থানীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত না করে কেবল ওপর থেকে আইন চাপিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। প্রযুক্তি এবং আদিবাসী মানুষের এই যৌথ উদ্যোগ আমাজন রক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
