স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির এই যুগে ‘ইলেকট্রনিক বর্জ্য’ বা ই-বর্জ্য বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল আবর্জনা। পরিবেশগত অপরাধের এক নতুন রূপ হলো—উন্নত দেশগুলো তাদের এই বিষাক্ত ই-বর্জ্যগুলো নিজেরা রিসাইকেল না করে অবৈধভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পাচার করছে।
এই ‘টক্সিক ট্রেড’ বা বিষাক্ত বাণিজ্য রুখতে ইন্টারপোল (INTERPOL) সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী “অপারেশন ক্লিন আর্থ” নামে এক কঠোর অভিযান শুরু করেছে।
পরিবেশগত অপরাধের ভয়াবহতা: পুরোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ভেতরে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম এবং আর্সেনিকের মতো মারাত্মক বিষাক্ত ভারী ধাতু থাকে।
- অবৈধ ডাম্পিং: ঘানা, নাইজেরিয়া, ভারত এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্যের আড়ালে এই বর্জ্যগুলো কন্টেইনারে করে পাঠানো হয়।
- মাটি ও পানি দূষণ: স্থানীয় দরিদ্র মানুষ যখন সামান্য তামা বা রূপা বের করার জন্য এই সার্কিট বোর্ডগুলো খোলা আকাশের নিচে পোড়ায়, তখন বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মেশে এবং রাসায়নিক তরল চুইয়ে ভূগর্ভস্থ পানিকে চিরতরে দূষিত করে।
ইন্টারপোলের পদক্ষেপ: ইন্টারপোল গ্লোবাল শিপিং রুটে ব্লকচেইন এবং এআই স্ক্যানিং ব্যবহার করে অবৈধ কন্টেইনার চিহ্নিত করছে এবং এই পাচার চক্রের সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক মাফিয়াদের গ্রেপ্তার করছে।
পরিবেশ রক্ষার নামে উন্নত বিশ্ব নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রেখে গরিব দেশগুলোকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড বানাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ই-বর্জ্যের এই আন্তর্জাতিক পাচার রোধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে আরও কঠোর হতে হবে।
