বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং মৌসুমী আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনায় বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্যে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের কৃষি ও সুপেয় পানির অবকাঠামো।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জলবায়ু গবেষকদের সাম্প্রতিক যৌথ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, একদিকে উত্তর জনপদে দীর্ঘায়িত খরা এবং অন্যদিকে উপকূলীয় অঞ্চলে লাগাতার লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে খাদ্য উৎপাদন ও সুপেয় পানির স্থায়িত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সংকটের রূপরেখা ও স্থানীয় প্রভাব: জলবায়ু পরিবর্তনের এই মরণফাঁদ থেকে উত্তরণে অবিলম্বে স্থানীয় ভিত্তিক অভিযোজন কৌশল জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে:
-
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় নদ-নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে উর্বর কৃষি জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
-
উত্তরাঞ্চলে খরা ও মরুকরণ প্রবণতা: বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলে গ্রীষ্ম ও বর্ষার স্বাভাবিক চক্র ভেঙে পড়ায় তীব্র খরা দেখা দিচ্ছে, যা বোরো ও আমন ধান উৎপাদনে গভীর সেচ সংকটের জন্ম দিচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় মরুকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত ত্বরান্বিত হচ্ছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের এই নীরব আগ্রাসন দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
গ্রিনপেজ মনে করে, জাতীয় পর্যায়ে বড় বড় প্রজেক্টের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় রেইনওয়াটার হারভেস্টিং এবং লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
