গ্রীষ্মকালে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবে জনজীবন কীভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, তার এক চাঞ্চল্যকর ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’-এর সাম্প্রতিক এক নতুন বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অতিরিক্ত প্রভাবে বাংলাদেশকে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫ দিন নজিরবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে।
এই সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সহনশীলতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে প্রায় ৩১ দিন তাপমাত্রা চরম সীমার ওপরে অবস্থান করেছে।
গবেষণার মূল বিষয়বস্তু ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং নির্বিচারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এশিয়ার জনবহুল অঞ্চলে তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে:
-
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শ্রমঘণ্টা হ্রাস: অতিরিক্ত এই তাপপ্রবাহের ফলে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং বয়স্কদের নানা জটিল শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
শহরাঞ্চলের অতিরিক্ত উষ্ণতা: কংক্রিটের আধিক্য এবং গাছপালা হ্রাসের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পঙ্গু করে তুলছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: তাপপ্রবাহের এই দীর্ঘায়িত রূপ প্রমাণ করে যে, জলবায়ু সংকট এখন আর কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কা নয়, বরং এটি আমাদের বর্তমানের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত জরুরি অবস্থা।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শহরগুলোতে সবুজায়ন বাড়ানো এবং অবিলম্বে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে জনজীবন আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
