মে ২০২৬ সালের তীব্র তাপদাহ আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ঢাকা শহর ধীরে ধীরে একটি বাসঅযোগ্য ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ (Urban Heat Island)-এ পরিণত হচ্ছে।
অপরিকল্পিত কংক্রিটের ভবন, গাছপালার অভাব এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে ঢাকার তাপমাত্রা আশেপাশের গ্রামীণ অঞ্চলের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। এই জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ২০২৬ সালে এসে জাপানি প্রযুক্তির ‘মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে’ নগর বনায়ন প্রকল্প জোরদার করেছে।
আরবান হিট আইল্যান্ড ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: বিজ্ঞানীদের মতে, ঢাকার শহরের বহুতল ভবনগুলো দিনের বেলা সূর্যের তাপ শোষণ করে এবং রাতে তা বাতাসে ছেড়ে দেয়। এর ফলে রাতেও শহর ঠাণ্ডা হতে পারছে না।
এই অতিরিক্ত গরমের কারণে কর্মক্ষমতা হ্রাস, হিট স্ট্রোক এবং শিশুদের নিউমোনিয়ার মতো রোগ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ঢাকার মাত্র ৮% এলাকায় সবুজ গাছপালা রয়েছে, যেখানে একটি আদর্শ শহরের জন্য কমপক্ষে ২৫% সবুজায়ন প্রয়োজন।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতি: ছোট জায়গায় ঘন বন তৈরির কৌশল: ২০২৬ সালের এই বনায়ন কর্মসূচিতে সাধারণ গাছ লাগানোর পরিবর্তে জাপানি উদ্ভিদবিজ্ঞানী আকিরা মিয়াওয়াকি আবিার্জিত ‘মিয়াওয়াকি মেথড’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
- দ্রুত বৃদ্ধি: এই পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির গাছগুলোকে খুব কাছাকাছি ঘন করে রোপণ করা হয়, যা সাধারণ বনের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ৩০ গুণ বেশি ঘন হয়।
- কার্বন শোষণ: এই মিনি-ফরেস্টগুলো সাধারণ বাগানের চেয়ে অনেক বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিতে পারে এবং শব্দের দূষণ কমায়।
- বাস্তবায়ন এলাকা: ঢাকার কল্যাণপুর, দিয়াবাড়ী এবং রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় এই পাইলট প্রকল্পগুলো ইতিমধ্যে ইতিবাচক ফল দেখাতে শুরু করেছে।
ঢাকাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রাখতে হলে কেবল বহুতল ভবন নির্মাণ করলেই হবে না। মিয়াওয়াকি মডেলের মতো আধুনিক পরিবেশ-বান্ধব বনায়ন পদ্ধতিকে প্রতিটি ওয়ার্ড ও আবাসিক এলাকায় বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।
