এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল পৃথিবীতে অক্সিজেন কেবল উদ্ভিদ এবং শৈবালের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই তৈরি হয়, যার জন্য সূর্যের আলো অপরিহার্য।
কিন্তু সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ১৩,০০০ ফুট গভীরে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে বিজ্ঞানীরা বিপুল পরিমাণ ‘ডার্ক অক্সিজেন’ (Dark Oxygen) আবিষ্কার করেছেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার (Research/New Life) প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে আমাদের পূর্বের সব ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
আবিষ্কারের বিজ্ঞান ও বিস্ময়: স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেরিন সায়েন্সের একদল গবেষক প্রশান্ত মহাসাগরের ‘ক্লারিওন-ক্লিপারটন জোন’-এ এই বিস্ময়কর ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন।
- পলিম্যাটালিক নোডিউল: সমুদ্রের তলদেশে থাকা আলু আকৃতির বিশেষ খনিজ পাথর (যাতে লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, কোবাল্ট রয়েছে) ব্যাটারির মতো কাজ করে।
- ইলেকট্রোলাইসিস: এই খনিজ পাথরগুলো সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এসে প্রাকৃতিকভাবে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি করে, যা পানির অণুকে ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করছে। আলো ছাড়াই তৈরি হওয়া এই অক্সিজেনই ‘ডার্ক অক্সিজেন’।
পরিবেশগত ঝুঁকি (Environmental Threat): এই আবিষ্কারের পরপরই গভীর সমুদ্রে খনন বা ‘ডিপ-সি মাইনিং’ নিয়ে তীব্র সতর্কতা জারি করেছেন পরিবেশবাদীরা। এই পাথরগুলো তুলে নিলে গভীর সমুদ্রের ইকোসিস্টেমের অক্সিজেনের একমাত্র উৎস ধ্বংস হয়ে যাবে।
ডার্ক অক্সিজেনের আবিষ্কার প্রমাণ করে মহাসাগর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কতটা সীমিত। বাণিজ্যিক স্বার্থে গভীর সমুদ্রের এই সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিরত থাকতে হবে।
