প্রকৃতিকে তার নিজের মতো করে ছেড়ে দিলে সে কীভাবে হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বনবিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এই বনে নতুন করে দেখা মিলেছে বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন প্রজাতি ‘ফায়ারের চশমাপরা বানর’ (Phayre’s Leaf Monkey)-এর একটি নতুন দলের। এই নতুন প্রাণের সন্ধান (New Life) বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সংরক্ষণ ও নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস: চোখের চারপাশে সাদা গোলাকার দাগের কারণে এদের চশমাপরা বানর বলা হয়। বাসস্থান ধ্বংস এবং অবৈধ শিকারের কারণে এরা প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।
- ইকো-ব্রিজ নির্মাণ: বনবিভাগ সম্প্রতি লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়ক ও রেললাইনের ওপর বানর চলাচলের জন্য ক্যানোপি ব্রিজ বা ‘ইকো-ব্রিজ’ নির্মাণ করেছে। এর ফলে রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির চাকায় বানরের মৃত্যু প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
- খাদ্যের জোগান: বনের ভেতর প্রাকৃতিকভাবে ডুমুর, চাপালিশ এবং অন্যান্য ফলজ গাছ লাগানোর ফলে বানরদের খাদ্যের অভাব দূর হয়েছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ: ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে গবেষকরা নতুন জন্ম নেওয়া বেশ কয়েকটি শাবকের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন, যা প্রমাণ করে এই পরিবেশে বানরগুলো সফলভাবে প্রজনন করছে।
লাউয়াছড়ায় চশমাপরা বানরের এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার করা গেলে বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করা সম্ভব। বন সুরক্ষায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
