পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মন্ট্রিল প্রোটোকল’-এর সফল রূপায়ণ এবং ওজোন স্তর রক্ষায় সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হলো ‘বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২৬’।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল টেকসই কুলিং বা শীতলীকরণ প্রযুক্তি এবং ওজোন স্তর ক্ষয়কারী উপাদানগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ বর্জন করা।
মূল এজেন্ডা ও পরিবেশগত কৌশল: ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা ওজোন স্তর রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পেছনে দায়ী রাসায়নিক পদার্থগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে জোর দিয়েছেন:
-
এইচএফসি (HFCs) গ্যাস ও কুলিং খাতের দূষণ: এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেশনে ব্যবহৃত হাইড্রোফ্লোরোকার্বন বা এইচএফসি জাতীয় গ্যাসগুলো ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি গ্রিনহাউস প্রভাবে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। কিগালি সংশোধনী (Kigali Amendment)-এর আলোльকে পরিবেশবান্ধব ও শক্তি-সাশ্রয়ী কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
-
শিল্প কারখানার রূপান্তর: পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফুর রহমান সেমিনারে উল্লেখ করেন যে, ওজোন স্তর রক্ষায় দেশের শিল্প কারখানা এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। ওজোন ক্ষয়কারী গ্যাসের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনতে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: ওজোন স্তরের সুরক্ষায় বিগত দশকগুলোতে বিশ্বব্যাপী যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা ধরে রাখতে জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় কুলিং খাতের আধুনিকায়ন জরুরি।
গ্রিনপেজ মনে করে, ক্ষতিকারক কৃত্রিম গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিস্তার ঘটালেই কেবল ওজোন স্তর এবং ধরিত্রীকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
