মৌন ঘাতক হিসেবে পরিচিত সিসা দূষণ (Lead Pollution) থেকে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং শিশুদের মেধা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় ‘অ্যাডভান্সিং টু আ লিড-ফ্রি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসা দূষণ নির্মূলে সুনির্দিষ্ট জাতীয় পর্যবেক্ষণ সেল এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহায়তার আহ্বান জানান।
সেমিনারের মূল তথ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ: গবেষকদের উপস্থাপিত তথ্যে সিসা দূষণের মারাত্মক চিত্র ও এর সমাধানকল্পে সুনির্দিষ্ট কৌশল তুলে ধরা হয়:
- শিল্পভিত্তিক উৎস চিহ্নিতকরণ: অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং, নিম্নমানের রং (Paint), রান্নার মশলায় ভেজাল রাসায়নিকের ব্যবহার এবং অ্যালুমিনিয়াম পাত্রের অননুমোদিত ব্যবহারের ফলে মাটিতে ও পানিতে অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সিসা মিশে যাচ্ছে। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের স্নায়ুতন্ত্র রক্ষায় সীসার স্পর্শ থেকে মুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সমন্বিত তদারকি ও আইনি উদ্যোগ: পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি এবং জনস্বাস্থ্যের মানদণ্ড একীভূত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের জোর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। স্থানীয় বাজার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে কঠোর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: সিসা দূষণ একটি মারাত্মক ও নীরব স্বাস্থ্য ঝুঁকি হলেও দীর্ঘদিন তা কিছুটা উপেক্ষিত ছিল।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এই সর্বাত্মক উদ্যোগ ও কঠোর তদারকি যদি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করে একটি বিষমুক্ত ও সুস্থ সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
