বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো, প্রাক-দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করা এবং জীবন ও সম্পদ রক্ষার বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস ২০২৬’।
১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে উদযাপিত এই দিবসে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা (Multi-hazard Early Warning System) এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
মূল তথ্য ও জাতীয় রূপরেখা:
রাজধানীতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বিশেষ সেমিনারে দেশের বদ্বীপ কৌশল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়:
-
আগাম সতর্কবার্তা ও জীবন রক্ষা: গত এক দশকে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে সাইক্লোনজনিত প্রাণহানি রেকর্ড পরিমাণে কমে এসেছে। সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান যে, বর্তমানে পাহাড়ি ধস, আকস্মিক বন্যা এবং নদীভাঙনের মতো দুর্যোগগুলো পূর্বাভাস ব্যবস্থার মধ্যে এনে আরও সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা প্রদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
-
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন: জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন (২০১৫-২০৩০)’ অনুযায়ী ক্ষতি কমানো এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ার লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ কীভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে, তা তুলে ধরা হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বাংলাদেশ কেবল দুর্যোগ মোকাবিলাতেই নয়, বরং দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর বৈশ্বিক মডেলেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
গ্রিনপেজ মনে করে, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি যেভাবে দ্রুততর হচ্ছে, তাতে দুর্যোগের পর ক্ষতিপূরণ বা ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু সহনশীল কাঠামো নির্মাণে জাতীয় বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে।
