বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট ২০২৬ সালে এসে একটি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ এবং ভূউপরিস্থ পানির উৎসগুলোতে নোনা পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন এক ফোঁটা মিষ্টি পানির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংকটের গভীরতা ও মানবাধিকার: ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত নিরাপদ পানি পাওয়ার অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও উপকূলের বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন দূরবর্তী কোনো মিষ্টি পানির উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে।
অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পানের ফলে এই অঞ্চলের গর্ভবতী নারী ও শিশুদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ এবং বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এছাড়া কৃষিজমিতে লবণাক্ততার কারণে ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সৌরচালিত ডিস্যালিনেশন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: এই প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় এখন কিছু আধুনিক পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে:
- সৌরচালিত ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট: সাগরের লোনা পানিকে কম খরচে পানের উপযোগী করার জন্য উপকূলীয় এলাকায় ছোট ছোট সোলার ডিস্যালিনেশন ইউনিট বসানো হচ্ছে।
- রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং: প্রাক-বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে ধরে রাখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিক পর্যায়ে বড় বড় আধুনিক ট্যাংক স্থাপন করা হচ্ছে।
- লবণাক্ততা সহিষ্ণু কৃষি: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত উচ্চ লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাতগুলো এখন কৃষকদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।
উপকূলের এই পানি সংকট নিরসনে কেবল এনজিও-নির্ভর স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প যথেষ্ট নয়। ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’-এর আওতায় নদীগুলোর নাব্য বাড়িয়ে মিষ্টি পানির প্রবাহ দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত করার মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
