বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মেরু অঞ্চলের বরফ থেকে শুরু করে মানুষের রক্তেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক মহামারী রুখতে ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের অধীনে একটি আইনি বাধ্যবাধকতামূলক ‘বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তি’ (Global Plastic Treaty) তৈরির চেষ্টা চলছে।
২০২৬ সালের মে মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘আইএনসি-৫.৩’ (INC-5.3) সেশনের পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলেও অর্থায়ন ও উৎপাদন হ্রাসের প্রশ্নে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
পেট্রোস্টেট বনাম উচ্চ-আকাঙ্ক্ষী জোট (High Ambition Coalition): এই চুক্তির মূল দ্বন্দ্বটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে। নরওয়ে এবং রুয়ান্ডার নেতৃত্বে গঠিত ‘হাই অ্যাম্বিশন কোয়ালিশন’ চায় ২০৪০ সালের মধ্যে নতুন প্লাস্টিক উৎপাদন সম্পূর্ণ সীমিত করতে এবং একক ব্যবহারযোগ্য (Single-use) প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে।
অন্যদিকে, বিশ্বের বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো (পেট্রোস্টেট) এই উৎপাদনের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বা ক্যাপ (Cap) বসানোর তীব্র বিরোধিতা করছে, কারণ প্লাস্টিক মূলত খনিজ তেল থেকেই তৈরি হয়।
অর্থায়নের অনিশ্চয়তা ও বর্তমান সংকট: ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই চুক্তির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেশ নরওয়ে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচিতে (UNEP) তাদের তহবিল পুনর্মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে।
এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যে কোটি ডলারের প্রজেক্ট চালু ছিল, তা সাময়িকভাবে থমকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রযুক্তির নতুন সমাধান: চুক্তির রাজনৈতিক জটিলতার বাইরে বিজ্ঞানীরা কিন্তু বসে নেই। সাগরের বর্জ্য ম্যাপ করার জন্য এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সামুদ্রিক শৈবাল (Algae) এবং মাশরুম থেকে তৈরি সম্পূর্ণ পচনশীল ‘বায়ো-প্লাস্টিক’ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে শুরু করেছে।
২০২৭ সালের শুরুতে প্লাস্টিক চুক্তির পরবর্তী চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকে প্লাস্টিকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি কঠোর এবং আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
