সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড় আইলা ও আম্পানের মতো দুর্যোগের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে।
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে স্থানীয় কৃষকরা এখন উদ্ভাবনী কৃষি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন, যা এই অঞ্চলে এক নীরব সবুজ বিপ্লবের জন্ম দিচ্ছে।
ভাসমান কৃষি বা ‘ধাপ’ পদ্ধতি: লবণাক্ত পানি থেকে ফসলকে বাঁচাতে কৃষকরা এখন প্রাচীন ‘ধাপ’ বা ভাসমান বেড পদ্ধতিকে আধুনিকায়ন করেছেন। কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ পচিয়ে পানির ওপর ভাসমান কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
এর ওপর মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণ দিয়ে লাউ, কুমড়া, টমেটোসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে। বন্যার পানি বাড়লেও এই বেডগুলো ভেসে থাকে বলে ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না।
লবণাক্ততা-সহনশীল বীজ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ:
- নতুন জাতের বীজ: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) উদ্ভাবিত লবণাক্ততা-সহনশীল ধানের জাত এবং সবজির বীজ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
- রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং: মিষ্টি পানির অভাব দূর করতে কৃষকরা বড় বড় ত্রিপল ও পুকুর কেটে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছেন, যা শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কাছে হার না মেনে উপকূলের কৃষকরা যেভাবে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন, তা বিশ্বের অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য একটি অসাধারণ রোল মডেল। সরকারি প্রণোদনা বাড়ালে এই টেকসই কৃষি ব্যবস্থা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখবে।
